ব্যবসা করেন এমন যে কাউকে জিজ্ঞেস করুন, গত মাসে লাভ হয়েছে নাকি লোকসান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তরটা আসে একটা দীর্ঘশ্বাসের পর, মনে হয় লাভ হয়েছে অথবা খুব একটা লস হয়নি। এই মনে হয় শব্দটাই আসলে অনেক ব্যবসার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
সংখ্যাটা দেখলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়। বাংলাদেশে একটা ছোট ব্যবসার বার্ষিক গড় আউটপুট মাত্র সাড়ে নয় হাজার ডলারের কাছাকাছি, অথচ প্রতিবেশী ভিয়েতনামে এই সংখ্যা সোয়া দুই লাখ ডলারেরও বেশি। পার্থক্যটা শুধু পুঁজি বা বাজারের নয়, অনেকটাই তথ্যের। যে ব্যবসা জানে ঠিক কোথায় টাকা যাচ্ছে, কোথা থেকে আসছে, সেই ব্যবসাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে দ্রুত এবং সঠিকভাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংকের বহুল আলোচিত এক গবেষণা বলছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া ছোট ব্যবসার প্রায় ৮২ শতাংশের পেছনে দায়ী নগদ প্রবাহ নিয়ে দুর্বল ধারণা বা ভুল ব্যবস্থাপনা। ব্যবসাটা লোকসানে ছিল বলে নয়, বরং কখন কত টাকা হাতে থাকবে, সেই হিসাবটা স্পষ্ট ছিল না বলেই। মুনাফা কাগজে-কলমে থাকতে পারে, অথচ হাতে নগদ না থাকলে সেই মুনাফার প্রকৃত মূল্য থাকে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই ঝুঁকি কম নয়। দেশের অর্ধেকের বেশি ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এখনো অনানুষ্ঠানিক কাঠামোতে চলে, যেখানে নিয়মিত হিসাব রাখার চর্চা তুলনামূলক কম। ফলে ব্যবসার প্রকৃত অবস্থা বোঝার আগেই অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে হয় অনুমানের ওপর ভর করে।
লাভ না লোকসান, এই প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষণিকভাবে দিতে পারাটাই আজকের ব্যবসার আসল শক্তি। বিক্রয়, খরচ, বাকি, সব হিসাব যখন এক জায়গায় গোছানো থাকে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তথ্যের ভিত্তিতে, অনুমানের ভিত্তিতে নয়। নিকেশ ঠিক এই স্বচ্ছতাটুকুই দিতে চায় প্রতিটি ব্যবসাকে, প্রতিদিন।
